আর্থিক স্বচ্ছতার স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলিকে আরটিআই অ্যাক্টের আওতায় আনা হোক, মামলা সুপ্রিম কোর্টে

দেশের স্বীকৃত রাজনৈতিক দলগুলিকে তথ্যের অধিকার আইনের আওতায় আনার আবেদন জানিয়ে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হল সুপ্রিম কোর্টে।
মামলা করলেন বিজেপি নেতা অশ্বিনী কুমার উপাধ্যায়। দুটির বেশি সন্তান থাকলে নির্বাচনে লড়া যাবে না, এই আবেদন জানিয়ে এর আগে জনস্বার্থ মামলা করেছিলেন তিনি, যা সুপ্রিম কোর্ট খারিজ করে দেয়।
এবার অশ্বিনী কুমার উপাধ্যায় জনস্বার্থ মামলায় আবেদন করেন, ১৯৫১ সালের রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল অ্যাক্ট অনুযায়ী, রেজিস্ট্রিকৃত রাজনৈতিক দলগুলিকে ২০০৫ সালের তথ্যের অধিকার আইন বা আরটিআই অ্যাক্টের আওতায় আনা হোক। এছাড়াও, এই হলফনামায় দাবি করা হয়েছে, আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে প্রত্যেকটি স্বীকৃত রাজনৈতিক দলকে পাবলিক ইনফর্মেশন অফিসার নিয়োগ করার জন্য নির্দেশ দিক শীর্ষ আদালত।
অশ্বিনী উপাধ্যায়ের পক্ষে আইনজীবী আদালতে সওয়াল করেন, স্বচ্ছ ও অবাধ ভোট প্রক্রিয়ার প্রধান বাধা হল কালো টাকা, বেনামি লেনদেন সহ নানা দুর্নীতি। তথ্যের অধিকার আইনে যা অনেকাংশে আটকানো যাবে বলে মনে করেন মামলাকারীর আইনজীবী। সংশ্লিষ্ট জনস্বার্থ মামলায় বলা হয়েছে, আইন অনুযায়ী, রাজনৈতিক দলগুলি কোথা থেকে অর্থ সাহায্য পাচ্ছে, নির্বাচন কমিশনকে তার বিস্তারিত তথ্য জানাতে বাধ্য। জনগণের কাছে নিজেদের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি বজায় রাখার জন্য এই দায়িত্ব পালন করা উচিত রাজনৈতিক দলগুলিকে। আর তথ্যের অধিকার আইনের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলির ভাবমূর্তি বিশদে জনগণ জানতে পারবেন বলে পিটিশনে দাবি করা হয়।
সংশ্লিষ্ট জনস্বার্থ মামলায় জানানো হয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকার বা রাজ্য সরকার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে বিনামূল্যে বা নাম মাত্র অর্থের বিনিময়ে জমি বা বাড়ি দেয়। এই ‘ইনডিরেক্ট ফাইনান্সিং’ সম্পর্কেও জানার অধিকার রয়েছে দেশের সাধারণ মানুষের।
রাজনৈতিক দলগুলির স্বচ্ছতার জন্য ২০১৫ সালে কেন্দ্রীয় তথ্য মন্ত্রকও একই আবেদন রেখেছিল। তখন বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল বেঁকে বসেছিল। আরটিআই অ্যাক্টিভিস্ট জনৈক সুভাষ আগরওয়ালও একই ইস্যুতে আগে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছিলেন।

Comments
Loading...