যা হওয়ার ছিল, তাই হল। জট কাটল রায়গঞ্জ এবং মুর্শিদাবাদ আসন নিয়ে। শিলমোহর পড়ল রাজ্যে সিপিএম-কংগ্রেস আসন সমঝোতায়। সূত্রের খবর, সিপিএমের জেতা রায়গঞ্জ এবং মুর্শিদাবাদে প্রার্থী দিচ্ছে না কংগ্রেস। ফলত, সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির যে সিদ্ধান্ত ছিল, ২০১৪ সালের জেতা ছটি আসনে (মালদহের দুটি, জঙ্গিপুর এবং বহরমপুরে কংগ্রেস এবং রায়গঞ্জ, মুর্শিদাবাদে সিপিএম) দু’দল একে অন্যের বিরুদ্ধে প্রার্থী দেবে না। এই অবস্থায় লোকসভা নির্বাচন ঘোষণা হয়ে যাওয়ার পর প্রার্থী তালিকা নিয়ে আর সময় নষ্ট করতে চাইছে না আলিমুদ্দিন স্ট্রিট। কংগ্রেসের সঙ্গে আলোচনার জন্য কিছু আসন ছেড়ে রেখে, আগামী ১৩ ই মার্চ অন্তত ২০ টি কেন্দ্রে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করবে বামফ্রন্ট।
ইতিমধ্যেই রায়গঞ্জে মহম্মদ সেলিম এবং মুর্শিদাবাদে বদরুদ্দোজা খানের নাম ঘোষিত হয়েছে। বাকি যে নামগুলি চূড়ান্ত হয়েছে তার বেশিরভাগই ঘোষণা করা হবে আগামী বুধবার।

কোন আসনে কে প্রার্থী

বীরভূম কেন্দ্রে প্রার্থী পদে চমক দিতে চলেছে সিপিএম। তৃণমূল সরকারের আমলে সাসপেন্ডেড চিকিৎসক, গত কয়েক বছর ধরে নানা ইস্যুতে ধারাবাহিকভাবে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করা ডঃ রেজাউল করিমকে বীরভূম আসনে প্রার্থী করছে সিপিএম। রেডিওলজির চিকিৎসক রেজাউল করিম স্বেচ্ছাবসরের আবেদন করেন, যা এখনও গৃহীত হয়নি। সূত্রের খবর, এই আবেদন গৃহীত না হলে সরকারি চাকরি থেকে ইস্তফা দেবেন ডঃ করিম।

ডঃ রেজাউল করিম

বীরভূম জেলারই বোলপুর আসনে সিপিএম প্রার্থী রামচন্দ্র ডোম। যাদবপুরে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য, দক্ষিণ কলকাতায় নন্দিনী মুখোপাধ্যায়, বর্ধমান দুর্গাপুরে আভাস রায় চৌধুরী, বর্ধমান পূর্বে ঈশ্বর দাস, ঝাড়গ্রাম কেন্দ্রে দেবলীনা হেমব্রম, আসানসোল কেন্দ্রে গৌরাঙ্গ চট্টোপাধ্যায়ের নাম ইতিমধ্যেই প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করেছে আলিমুদ্দিন স্ট্রিট। জানা যাচ্ছে, নদিয়ার রানাঘাট কেন্দ্রে সিপিএম প্রার্থী রমা বিশ্বাস, কৃষ্ণনগর কেন্দ্রের প্রার্থী শান্তনু ঝা। উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ কেন্দ্রে সিপিএম প্রার্থী অলোকেশ দাস। দমদম কেন্দ্রে প্রার্থী সম্ভবত রেখা গোস্বামী। বাঁকুড়া কেন্দ্রে সিপিএম প্রার্থী পার্থ মজুমদার।

এখনও কোথায় জট এবং আলোচনা

সূত্রের খবর, রায়গঞ্জ এবং মুর্শিদাবাদ নিয়ে রাহুল গান্ধীর চাপে কংগ্রেস রাজ্য নেতৃত্ব সুর নরম করার পর এবার তাঁরা আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের সঙ্গে বসছেন দ্বিতীয় দফার আলোচনায়। জানা যাচ্ছে, কলকাতার একটি আসন কংগ্রেস চাইছে। তাতে সিপিএমের কোনও আপত্তি নেই। সিপিএম উত্তর কলকাতা আসনটি কংগ্রেসকে ছাড়তে চায়। এর পাশাপাশি দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ডহারবার এবং উত্তর ২৪ পরগনার বারাকপুর আসন দুটিও কংগ্রেসকে ছাড়বে সিপিএম। হাওড়া এবং তমলুক আসন দুটি চাইছে কংগ্রেস। তমলুক আসন ছাড়তে রাজি নয় সিপিএম। বীরভূম আসনটিও কংগ্রেস চাইছে, কিন্তু সেই কেন্দ্রে প্রার্থী চূড়ান্ত করে ফেলেছে সিপিএম। সিপিএমের সঙ্গে বামেদের আলোচনায় এখন টানাপোড়েন শুরু হয়েছে পুরুলিয়া আসন নিয়ে। যে কোনও মূল্যে এই আসনটির দাবি থেকে সরতে রাজি নয় রাজ্য কংগ্রেস নেতৃত্ব। কিন্তু আলিমুদ্দিনের সমস্যা হচ্ছে, এই আসনটি ফরওয়ার্ড ব্লকের। ফরওয়ার্ড ব্লকও পুরুলিয়া আসন ছাড়তে রাজি নয়। পুরুলিয়া এবং আর ২-৩ টি আসন নিয়ে শেষ মুহূর্তের আলোচনা চালাচ্ছেন রাজ্যের সিপিএম এবং কংগ্রেস নেতৃত্ব। সূত্রের খবর, পুরুলিয়ার সমস্যা কাটলেই মসৃণভাবে মিটবে আসন্ন লোকসভা ভোটের জন্য বাম-কংগ্রেস আসন সমঝোতা।

You may also like