মহারাষ্ট্রের পালঘর জেলার তালাসারি পঞ্চায়েতে ফের সিপিএমের জয়, টানা ৫৮ বছর আদিবাসী এলাকায় উড়ছে লাল পতাকা

দেশজুড়ে বাম দলগুলি যখন অস্তিত্বের সঙ্কটে ভুগছে, পশ্চিমবঙ্গ-সহ বিভিন্ন রাজ্যে সিপিএমের ভোট শতাংশ যখন ক্রমশ নামছে, তখন মহারাষ্ট্রের তালাসারি অনন্য। দীর্ঘ ৫৮ বছর ধরে মহারাষ্ট্রের পালঘর জেলার তালাসারিতে উঁচুতেই উড়ছে সিপিএমের পতাকা।
১৫ ফেব্রুয়ারি আবারও তালাসারি তহশিল পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারপার্সন ও ভাই চেয়ারপার্সন পদে জিতল সিপিএম। তালাসারির ১০ সদস্যের পঞ্চায়েত সমিতিতে সবাই আদিবাসী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি। সেখানে প্রায় বিনা বাধায় চেয়ারপার্সন হলেন নন্দকুমার হাদাল এবং ভাইস চেয়ারম্যান হলেন রাজেশ খারপাড়ে।
গত ৭ জানুয়ারি হওয়া ভোটে তালাসারি তহশিলের জেলা পরিষদের পাঁচটি আসনের চারটিতে এবং ১০ টি পঞ্চায়েত সমিতির আটটিতে বিজেপি ও এনসিপিকে উড়িয়ে দিয়ে ক্ষমতা ধরে রাখল সিপিএম।
পালঘরে জেলা পরিষদের মোট ছ’টি আসন এবং ১২ টি পঞ্চায়েত সমিতির দখল ধরে মোট ১৮ টি আসনে জয় পেয়েছে সিপিএম। ২০১৫ সালের ভোটে মোট ১৫ টি আসন পেয়েছিল বামেরা। এবার আরও তিনটি আসন বাড়ল তাদের। সারা ভারত কিষাণ সভার সভাপতি তথা বিশিষ্ট সিপিএম নেতা অশোক ধাওয়ালের কথায়, ১৯৬২ সাল থেকে দীর্ঘ ৫৮ বছর একইভাবে তালাসারি তহশিল পঞ্চায়েত ভোটে সিপিএমের কর্তৃত্ব ধরে রাখা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
গত বছরের অক্টোবরে মহারাষ্ট্রের বিধানসভা ভোটেও পালঘর জেলার দাহানু আসনে বিজেপির হেভিওয়েট প্রার্থী ধনারে পাসকলকে হারিয়ে চমকে দিয়েছিলেন বিনোদ বিভা নিকোল। এই দাহানু বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যেই তালাসারি তহশিল এবং দাহানু তহশিলের একটা বড় এলাকা পড়ে। ১৯৭৮ সাল থেকে ১০ বার বিধানসভা ভোটে আগে জওহর নামে পরিচিত দাহানু আসনে ন’ বারই জয় পেয়েছে সিপিএম। ৪২ বছরে শুধু একবার, ২০১৪ সালে সিপিএমের হাতছাড়া হয়েছিল এই আসনটি।
মহারাষ্ট্র ও গুজরাত সীমান্ত এলাকায় এবং মুম্বই থেকে প্রায় ১৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত তালাসারি ১৯৪৫ সালের ওয়ারলি আদিবাসী বিদ্রোহের জন্য ইতিহাসের পাতায় বিখ্যাত হয়ে আছে। ৭৫ বছর আগে কমিউনিস্ট পার্টি ও সারা ভারত কিষাণ সভার (এআইকেএস) পরিচালনায় জমিদারি শাসনের বিরুদ্ধে আদিবাসী আন্দোলনের জন্য বিখ্যাত থানে ও পালঘর এলাকা। দাহানুর সিপিএম বিধায়ক বিনোদ নিকোল বলেন, ওই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন কমরেড শ্যামরাও পারুলেকর ও কমরেড গোদাবরী পারুলেকর। পরে দু’জনেই সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৫৭ সালে সংযুক্ত মহারাষ্ট্র আন্দোলনের সময় থানে লোকসভা কেন্দ্র থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন শ্যামরাও। গোদাবরী পারুলেকর পরে এআইকেএসের জাতীয় সভাপতি হন। তাঁদের সেই ধারাকেই আমরা বহন করে আসছি। আদিবাসীদের অভাব-অভিযোগ, সমাজের তৃণমূল স্তর থেকেই আমাদের লড়াই।
এই এলাকার প্রধান ইস্যু হল কাঠামোগত উন্নয়ন ও অপুষ্টি। তালাসারির জনসংখ্যা ১ লক্ষ ৫৪ হাজার ২১৭। ১৮৫ টি গ্রাম ও ২১ টি গ্রাম পঞ্চায়েত মিলিয়ে এই এলাকায় মোট ২১ হাজার ৫৩৯ টি আদিবাসী পরিবার বসবাস করে। এদের ৯০ শতাংশেরও বেশি রয়েছেন দারিদ্র্যসীমার নীচে, কৃষি ও মাছ শিকার হল প্রধান জীবিকা। বছর কয়েক আগে নাসিক থেকে মুম্বইয়ে কৃষকদের লং মার্চে তালাসারির অধিকাংশ আদিবাসী অংশ নিয়েছিলেন।

Comments
Loading...