ফের নির্বাচন কমিশনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কমিশনকে খোলা চিঠি দিলেন ১৪৫ জন অবসরপ্রাপ্ত সিভিল সার্ভিস অফিসার, শিক্ষাবিদ ও বিশিষ্টজন।
২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের কাজের ‘দীর্ঘসূত্রিতা, নীরবতা এবং নিষ্ক্রিয়তা’র অভিযোগ করেছিলেন জহর সরকার, অভিজিৎ সেনগুপ্ত, ওয়াজাহাত হাবিবুল্লাহ, হর্ষ মান্দের, অরুণা রায়ের মতো অবসরপ্রাপ্ত অফিসাররা। এই চিঠিতে তাঁদের সমর্থন জানিয়েছেন অ্যাডমিরাল এল রামদাস, অ্যাডমিরাল বিষ্ণু ভাগবত, নিবেদিতা মেনন, প্রবাল দাশগুপ্ত, প্রণয় গুহ ঠাকুরতা, লীলা সামসনের মতো ব্যক্তিত্ব। কমিশনকে দেওয়া এই খোলা চিঠিতে ৬৪ জন অবসরপ্রাপ্ত আইএএস, আইএফএস, আইপিএস, আরআরএস অফিসার ও বিভিন্ন ক্ষেত্রের ৮৩ বিশিষ্ট ব্যক্তি লিখেছেন, ২০১৯ লোকসভার মতো দেশে গত ৩ দশকে এমন নির্বাচন হয়নি। লেখা হয়, ২০১৯ এর নির্বাচন প্রসঙ্গে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সব প্রতিবেদনকে মান্যতা না দিলেও, কমিশনের বিরুদ্ধে যে বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তার কোনও বিশদ ব্যাখ্য দেয়নি নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনের সময়সূচি থেকে নির্বাচন আদর্শ বিধিভঙ্গ, উগ্র দেশাত্ববোধ, নির্বাচনকালে প্রধানমন্ত্রীর চপার বিতর্ক, নমো টিভি থেকে নির্বাচনী বন্ড ও ইভিএম বিতর্ক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এই অবসরপ্রাপ্ত সিভিল সার্ভিস অফিসার, শিক্ষাবিদ ও বিশিষ্টরা।
চিঠিতে লেখা হয়, মার্চ মাসের ১০ তারিখ পর্যন্ত নির্বাচন নির্ঘন্ট প্রকাশের পর সন্দেহ তৈরি হয়, ফেব্রুয়া্রি থেকে মার্চের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিভিন্ন প্রকল্প ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করেনি তো নির্বাচন কমিশন? এছাড়া তামিলনাড়ু, কেরল,অন্ধ্র প্রদেশ, তেলেঙ্গানার মতো রাজ্যে যেখানে বিজেপির জয়লাভের সম্ভাবনা কম, সেখানেই এক দফায় ভোট করা হয়েছে। অন্যদিকে, ওড়িশা, কর্ণাটক বা মধ্য প্রদেশের লোকসভা আসন তুলনামূকভাবে কম হওয়া সত্ত্বেও কেন কয়েক দফায় নির্বাচন হয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা নেই বলে অভিযোগ করা হয়েছে চিঠিতে। এছাড়া, সংখ্যালঘুদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া, নির্বাচনী প্রচারে বিজেপির শীর্ষ নেতাদের মন্তব্য, বক্তব্যে নির্বাচনী বিধিভঙ্গ সত্ত্বেও কমিশনের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ করা হয়েছে। কমিশনকে দেওয়া চিঠিতে সমাজের বিশিষ্টজনেরা লেখেন, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচনকালীন নানা সন্দেহ দূর করার জন্য অবিলম্বে কমিশনের তরফে সমস্ত অভিযোগের উত্তর দেওয়া উচিত।
আরও পড়ুন: দারিদ্র্যের কারণে গুজরাতে আত্মহত্যা বেড়েছে ১৬২%! বেকারত্বের জন্য ২১%, জানাচ্ছে কেন্দ্রের রিপোর্ট




