মোদী জমানাকে ‘সুপার ইমার্জেন্সি’ বলে কটাক্ষ মমতার, গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল দেশের আত্মাকে, জরুরি অবস্থা প্রসঙ্গে কংগ্রেসকে তোপ মোদীর

২৫ শে জুন। সেই ২৫ শে জুন, যেদিন রাতে ভারতের গণতন্ত্রের আত্মাকে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর জবাবি ভাষণ দিতে গিয়ে জরুরি অবস্থার স্মৃতিচারণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মহাত্মা গান্ধীর অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করে বিঁধলেন কংগ্রেসকে। বললেন, জরুরি অবস্থার দগদগে ক্ষত এখনও কষ্ট দেয়। পাশাপাশি বিরোধীদের উদ্দেশে মোদীর কটাক্ষ, আপনাদের সঙ্গে বাস্তবের যোগ নেই। শিকড় থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছেন আপনারা, বিরোধীদের বলেন প্রধানমন্ত্রী।

এদিনই সকালে জরুরি অবস্থার ভয়াবহতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ট্যুইট করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। ট্যুইটে মমতা অভিযোগ করেন, গত ৫ বছর ধরে দেশে সুপার ইমার্জেন্সি চলছে। ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের উচিত দেশের গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার জন্য লড়াই করা, লিখেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

যদিও বিরোধীদের এই সুপার ইমার্জেন্সির অভিযোগ নিয়ে কিছুই বলেননি নরেন্দ্র মোদী। উল্টে তাঁর দাবি, মানুষ জরুরি অবস্থার পর ব্যালট বাক্সে সেই সিদ্ধান্তের কী অবস্থা করেছিলেন, তাতেই স্পষ্ট, এদেশের মানুষ জরুরি অবস্থা সমর্থন করেননি। লোকসভা ভোটে বিপুল জয়ের পর এই প্রথম লোকসভায় ভাষণ দিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। আর তাঁর জবাবি ভাষণের পরতে পরতে ছিল কংগ্রেস সহ বিরোধীদের কটাক্ষ। কখনও গান্ধীজি আবার কখনও আম্বেডকর, মোদীর জবাবি ভাষণে ঘুরে ফিরে এসেছেন সবাই। বারবার বলেছেন দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাঁর সরকারের জেহাদের কথা। জাতি-ধর্ম-বর্ণের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের সেবা করার কথা। পাশাপাশি তীব্র কটাক্ষ করেছেন লোকসভায় ঠিক উল্টোদিকে বসে থাকা রাহুল গান্ধী এবং সনিয়া গান্ধীকে। ব্যক্তিকে নিয়ে আমার উৎসাহ নেই, আমার কাছে কোটি কোটি দেশবাসীই সব, বলেন মোদী, সেইসঙ্গে রাহুল-সনিয়ার দিকে কটাক্ষ ছুঁড়ে তাঁর সংযোজন, যাঁরা জামিনে মুক্ত আছেন, তাঁরা আনন্দে থাকতে পারেন। সোমবারই অধীর চৌধুরী প্রশ্ন করেছিলেন, কংগ্রেসের কেউ দুর্নীতি করে থাকলে, তাঁকে কেন জেলে পোরেনি মোদী সরকার? ন্যাশনাল হেরাল্ড মামলায় জামিনে মুক্ত রাহুল-সনিয়াকে তাই সময়োচিত কটাক্ষে বিঁধলেন প্রধানমন্ত্রী, এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

এদিন দেশের ভয়াবহ জল সঙ্কট নিয়েও মুখ খোলেন মোদী। বলেন, প্রত্যেক ভারতবাসীর কাছে জল পৌঁছে দেওয়া আমাদের স্বপ্ন। জল সঙ্কট মোকাবিলায় সকলকে হাতে হাত ধরে কাজ করারও আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। কৃষকদের কাছে গিয়ে তাদের মাইক্রো ইরিগেশনের গুণাগুণ বর্ণনা করার কথাও এদিন লোকসভায় দাঁড়িয়ে বলতে শোনা যায় নরেন্দ্র মোদীকে।

Comments are closed.