দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীদের নিয়ে দিল্লিতে বিশাল সংগ্রহশালা তৈরি হবে। ঘোষণা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর। এর মধ্যে দিয়েই রাজনৈতিক অস্পৃশ্যতা ঝেড়ে ফেলে নতুন ‘রাজনৈতিক সংস্কৃতি’র সূচনা হবে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।
আরও পড়ুন: গোমূত্র দিয়ে তৈরি হচ্ছে করোনার ওষুধ! বিতর্কে গুজরাত কোভিড কেয়ার সেন্টার
প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীদের জীবনের বিভিন্ন দিক জানতে তাঁদের পরিবার ও বন্ধু-বান্ধবদের সাহায্য নেওয়া হবে। প্রকল্প রূপায়ণে ইতিমধ্যেই তিন সদস্যের প্যানেল তৈরি করে ফেলেছে কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রক, জানান প্রধানমন্ত্রী।
বুধবার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী চন্দ্রশেখরের উপর একটি বই প্রকাশের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মোদী। সেখানে থেকে তিনি ঘোষণা করেন, দিল্লিতে দেশের প্রধানমন্ত্রীদের নিয়ে বড় মিউজিয়াম হচ্ছে। নরেন্দ্র মোদী বলেন, একটা শ্রেণি আছে যাঁরা বিভিন্ন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কুৎসা করেন। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সাধারণ মানুষের মন থেকে তাঁদের স্মৃতি মুছে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী চন্দ্রশেখরের উদাহরণ টেনে মোদী বলেন, বড় ব্যবসায়ীদের টাকায় দেশের অষ্টম প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন চন্দ্রশেখর, জনমানসে এমন ধারণা তৈরির চেষ্টা হয়েছিল। মোদীর কথায়, দেশের উন্নতিতে প্রধানমন্ত্রীদের অবদান ভুলে গিয়ে, এই প্রধানমন্ত্রী মিটিংয়ে ঘুমোতেন, ওই প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতিতে যুক্ত, এসব রটিয়ে তাঁদের কাজকে ছোট করার চেষ্টা করা হয়। এই ‘রাজনৈতিক অস্পৃশ্যতা’ সরিয়ে সব প্রধানমন্ত্রীর কাজ সম্পর্কে আলোকপাত করতে এই সংগ্রহশালা তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।
তবে এখানেও বিতর্ক দানা বেঁধেছে। স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জহরলাল নেহরুর সরকারি বাসভবন ছিল দিল্লির তিন মূর্তি ভবনে। যেখানে পরে নেহরু মেমোরিয়াল মিউজিয়াম ও লাইব্রেরি তৈরি হয়। কোনও নতুন জায়গার বদলে ওই স্থানটিকেই প্রধানমন্ত্রীদের স্মৃতিতে সংগ্রহশালা তৈরিতে বেছে নেওয়াকে অভিসন্ধিমূলক বলে মনে করছে কংগ্রেস। কংগ্রেসের অভিযোগ, দেশের সব প্রধানমন্ত্রীর জন্য একটি সংগ্রহশালা তৈরি করে আসলে নেহরুর অবদানকে খাটো করার চেষ্টা করছে মোদী সরকার।




