আরাবল্লি পর্বতে প্রায় ৪০০ একর বনভূমি পাইয়ে দেওয়া হয়েছে রামদেবের পতঞ্জলি গোষ্ঠীকে? দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের খবরে বিতর্ক

আরাবল্লি পর্বতে কয়েকশো একর বনভূমি অবৈধ উপায়ে হাতিয়ে নিয়েছে যোগগুরু রামদেবের পতঞ্জলি গোষ্ঠী । বৃহস্পতিবার ইংরেজি দৈনিক দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রকাশিত প্রতিবেদনে এমনই দাবি করা হয়েছে। হরিয়ানার ফরিদাবাদ জেলায় আরাবল্লি পর্বতের ঢালে প্রায় ৪০০ একর বনভূমি হস্তান্তরের কাজ ২০১৪ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছ।
২০১১ সালে সুপ্রিম কোর্ট অবশ্য নির্দেশ দিয়েছিল, পর্বতগাত্রে যত সাধারণ জমি আছে, তা সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েতের হাতে তুলে দিতে হবে। সেই জমি বিক্রি বা হস্তান্তর বেআইনি।
এ বছর ফেব্রুয়ারিতে হরিয়ানা সরকার একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানায়, উন্নত কৃষি প্রযুক্তি প্রয়োগের উদ্দেশে ৩,১৮৪ একর জমি চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে প্রকাশ, এই জমির সিংহভাগই পড়ছে আরাবল্লি পর্বতের শামলাত ডেহ এবং গ্যার মুমকিন পাহাড়ে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, যে এলাকায় কৃষি এবং উন্নয়নের কোনও কাজ করা নিষিদ্ধ। ফেব্রুয়ারিতেই হরিয়ানা সরকার ১৯৯০ সালের পঞ্জাব ল্যান্ড প্রিসারভেশন আইন লাগু করে। আর এর ফলে খুলে যায় পর্বত গাত্রে ঘর, বাড়ি, পরিকাঠামো নির্মাণ এবং খননকার্যের দরজা। তবে সরকারের এই পদক্ষেপে বাদ সাধে সুপ্রিম কোর্ট। হরিয়ানা সরকারকে রীতিমতো তিরস্কার করে সুপ্রিম কোর্ট এই ঘটনাকে নির্বিচারে অরণ্য নিধন আখ্যা দেয়। ওই এলাকায় কোনও কাজে ফের নিষেধাজ্ঞা জারি করে শীর্ষ আদালত।
তবে পর্বতগাত্রের সাধারণ জমি দখল কিংবা কিনে নেওয়ার ঘটনা নতুন নয়। গুরগাঁওয়ের ডেপুটি কমিশনারের এজলাসে এই সংক্রান্ত একটি মামলা দায়ের হয়েছিল। ২০১৮ সালে সেই মামলায় শুনানিতে ফরিদাবাদের বাসিন্দা জনৈক প্রবীণকুমার শর্মা আদালতে ১০৪ টি প্লটের জমি মালিকদের নথি পেশ করেন। দাবি করেন, তাঁর কাছে রয়েছে এই জমির পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি। যা পরিমাণে ৪০০ একরের বেশি। প্রতিবেদনে প্রকাশ, এই প্রবীণ শর্মা হারবো ভেদ গ্রাম প্রাইভেট লিমিটেড নামে একটি সংস্থার হয়ে জমি কেনাবেচার কাজ করেন। কিন্তু এই হারবো বেদ গ্রামের সঙ্গে বিজেপি ঘনিষ্ঠ রামদেবের কী সম্পর্ক? এই সংস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর করতে গিয়ে বেরিয়ে পড়ে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য।
২০১৬-১৭ আর্থিক বছরের দস্তাবেজে দেখা যাচ্ছে, হারবো ভেদ গ্রাম প্রাইভেট লিমিটেডের ১০০ শতাংশ শেয়ারই রামদেবের পতঞ্জলি আয়ুর্বেদ লিমিটেডের হাতে। ২০১৭-১৮ সালের নথিতে আবার দেখা গিয়েছে, এই সংস্থার ৯৯ শতাংশ শেয়ার হস্তান্তর করা হয়েছে আচার্য বালকৃষ্ণের নামে। আবার এই বালকৃষ্ণই রামদেবের ব্যবসায়িক সহযোগী, বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এখানেই শেষ নয়, সংস্থার কাগজপত্র থেকে জানা যাচ্ছে, জমির ব্রোকার প্রবীণকুমার শর্মার সঙ্গে মূল সংস্থার বিনা সুদে একাধিক হিসাব বহির্ভূত লেনদেনের হিসেব রয়েছে। সূত্রের খবর, হারবো ভেদ গ্রাম প্রাইভেট লিমিটেড প্রবীণকুমার শর্মার মাধ্যমে আদালত নিষিদ্ধ এলাকায় জমি কেনাবেচা চালাতো। স্থানীয় কোট গ্রামের বাসিন্দাদের থেকে ৪০০ একরেরও বেশি জমি কিনতে এই টাকা অগ্রিম হিসেবে দেওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
তাহলে কি আদালতের নির্দেশ অগ্রাহ্য করে, ভুয়ো সংস্থা তৈরি করে আরাবল্লি পর্বতের বিশাল পরিমাণ সাধারণ বনভূমি দখল করেছে পতঞ্জলি আয়ুর্বেদ? আর আইন সংশোধন করে বিজেপি ঘনিষ্ঠ রামদেবকে বাড়তি সুবিধা পাইয়ে দিয়েছে হরিয়ানা সরকার? প্রশ্ন উঠছে।

Comments are closed.