সেপ্টেম্বরের পর অক্টোবরে আরও সঙ্কুচিত শিল্পোৎপাদন, সমালোচনায় মনমোহন সিংহ, কেন্দ্রকে আস্থা ফেরানোর পথ নিতে আবেদন

শুক্রবার এনএসওর রিপোর্ট প্রকাশ্যে এসেছে। তাতে দেখা গিয়েছে, এ বছর জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর অর্থাৎ ২০১৯-২০ অর্থবর্ষের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে দেশের বৃদ্ধির হার কমে হয়েছে ৪.৫ শতাংশ। একইসঙ্গে সেপ্টেম্বরের মতোই অক্টোবরেও কমেছে দেশের জাতীয় শিল্পোৎপাদনের পরিমাণ। অক্টোবরে শিল্পোৎপাদন এসে ঠেকেছে ৫.৮ শতাংশে। গত এক দশকে সর্বোচ্চ সঙ্কোচন দিনের আলোর মতো স্পষ্ট করে দিয়েছে দেশের অর্থনীতির মন্দায় আক্রান্ত হওয়ার সত্যকে।
অক্টোবরে ৮ টির মধ্যে কয়লা, অপরিশোধিত তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, সিমেন্ট, লৌহ ইস্পাত এবং বিদ্যুৎ, এই ৬ টি কোর সেক্টর বা প্রধান পরিকাঠামো ক্ষেত্র আগের চেয়ে আরও সঙ্কুচিত হয়েছে। সবচেয়ে খারাপ হাল উৎপাদন ক্ষেত্রের। ২০১৮-১৯ অর্থবর্ষের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে যেখানে উৎপাদন ক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার ছিল ৬.৯ শতাংশ, এবছর একই সময় তা কমে দাঁড়িয়েছে মাইনাস (-) ১ এ। অর্থাৎ ঋণাত্মক বৃদ্ধি হয়েছে।
প্রশাসন এবং প্রতিরক্ষা ছাড়া সরকারের খরচ বেড়েছে আরও বিভিন্ন ক্ষেত্রে। অর্থ বছরের প্রথম ৬ মাসেই রাজকোষ ঘাটতি বাজেটে বলা অঙ্ককে ছাপিয়ে গিয়েছে। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজকোষ ঘাটতির পরিমাণ ৭,২০,৪৪৫ কোটি টাকা। যা বাজেটে বলা পরিমাণের ১০২.৪ শতাংশ। এরপর বাকি রয়েছে আরও দুটি ত্রৈমাসিক। ফলে স্বাভাবিক নিয়মেই রাজকোষ ঘাটতি মাত্রাছাড়া আকার নেবে।এই প্রেক্ষিতে আশার বাণী শুনিয়েছেন সরকারের বর্তমান মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা কে সুব্রহ্মণ্যম। তিনি বলছেন, ভারতীয় অর্থনীতির বুনিয়াদ এখনও যথেষ্ট মজবুত। তৃতীয় ত্রৈমাসিক থেকেই জিডিপি আবার উপর দিকে ওঠা শুরু করবে।
এখানেই প্রশ্ন তুলেছেন আর এক বিশ্ববন্দিত অর্থনীতিবিদ। ঘটনাচক্রে তাঁর হাত থেকেই ২০১৪ সালে দেশের ক্ষমতা গিয়েছিল নরেন্দ্র মোদীর হাতে। তিনি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ। মনমোহন বলছেন, অবিশ্বাস আর আতঙ্কের যুগপত হামলায় বেলাইন হয়ে পড়েছে ভারতের অর্থনীতি। তাই আর্থিক নীতি প্রণয়নের চেয়েও এই মুহূর্তে বেশি প্রয়োজন অর্থনীতির প্রধান স্টেক হোল্ডারদের আস্থা ফিরিয়ে আনা। দেশের অর্থনীতির এমন মন্দাক্রান্ত দশা দেশবাসীর আকাঙ্খার পরিপন্থী। ফলে ভারতের মতো বিশাল দেশের অর্থনীতিকে এই মুহূর্তে অক্সিজেন যোগাতে প্রয়োজন স্টেক হোল্ডারদের আস্থা অর্জন। যা মোদী সরকার এতদিন করে উঠতে পারেনি। তাঁর অভিযোগ, সর্বত্র একটা ভয়, আতঙ্ক, আনাস্থার বাতাবরণ বিরাজ করছে। এগুলি কাটাতে না পারলে সমূহ বিপদ।

Comments
Loading...