‘রাজ্যপালের পদ খালি, সংবিধান পড়তে পারা লোক দরকার’, ধনখড়কে কটাক্ষ মহুয়া মৈত্রের

‘বাংলায় রাজ্যপালের পদ খালি আছে’, এই ভাষাতেই ফের জগদীপ ধনকড়কে নিশানা করলেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র।
মমতা ব্যানার্জি সরকার ও রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ের দ্বৈরথ পুরনো। তবে করোনা পরিস্থিতিতে রাজ্য ও কেন্দ্রের মধ্যে সংঘাতের আবহে বাংলার রাজ্যপাল যে অবস্থান নিয়েছেন তা একেবারেই নিরপেক্ষ নয় বলে অভিযোগ তৃণমূল নেতৃত্বের। এর মধ্যেই ফের ধনকড়কে ট্যুইট আক্রমণ শানালেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ।
বুধবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ২০ লক্ষ কোটি টাকার প্যাকেজকে ‘বিগ জিরো’ এবং ‘অশ্বডিম্ব’ বলে সমালোচনা করেন মমতা। আর মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পরই কেন্দ্রীয় সরকারের হতে আসরে নামেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে উদ্দেশ্য করে তিনি ট্যুইটারে লেখেন, ‘নেতিবাচক চিন্তাধারা।’ পাশাপাশি কেন্দ্রের প্যাকেজকে ‘যুগান্তকারী’ বলে বাহবা দেন রাজ্যপাল। আর তাঁর এই ট্যুইটের পরই তৃণমূলের পক্ষে পাল্টা আক্রমণে নামেন মহুয়া মৈত্র।
বৃহস্পতিবার রাজ্যপাল ধনকড়কে কটাক্ষ করে মহুয়ার ট্যুইট, ‘পরিস্থিতি অনুযায়ী কর্মখালি- ১টি পোস্ট খালি রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল পদের জন্য। যোগ্যতা: ১. সংবিধান পড়তে পারা, ২. রাজ্যের অফিসারদের সম্মান ও অপ্রয়োজনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মুখ খোলা বন্ধ রাখা এবং ৩. নিজের সম্মান বজায় রাখা ও নির্লজ্জভাবে রাজনীতি না করা।’

এর আগেও মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে রাজ্যপালের পত্রযুদ্ধ নিয়ে মহুয়া ট্যুইটারে কটাক্ষ করে লেখেন, আমরা এখন মহামারির মোকাবিলা করছি৷ এখন আমাদের কারও রাজভবনে রাজ্যপালের দায়িত্ব সামলাতে আসা, কাজের বাইরে থাকা একজন আইনজীবীর সঙ্গে কথার লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়ার সময় বা ইচ্ছে নেই৷ তাই নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহকে আমাদের অনুরোধ, এই ভদ্রলোককে দিল্লি ফিরিয়ে নিয়ে লকডাউনে রাখুন৷
বৃহস্পতিবার ফের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে একাধিক অভিযোগ করে চিঠি পাঠিয়েছেন রাজ্যপাল ধনকড়। রাজ্যপালের প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনে অনিহার অভিযোগ আনেন। যদিও এর কোনও জবাব মুখ্যমন্ত্রী দেননি। জবাব দিলেন মহুয়া মৈত্র।

কলকাতা পুরসভার মেয়াদ শেষে প্রশাসক নিয়োগ করা নিয়ে রাজ্যপালের অনুমতি চেয়ে আবেদন জানিয়েছিল রাজ্য সরকার। কিন্তু রাজ্যপাল তাতে রাজি হননি। তারপরেই আপৎকালীন আইনের সাহায্যে মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে প্রশাসক পদে নিয়োগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। যা নিয়ে ক্ষুব্ধ হন ধনকড় এবং ফের চিঠি পাঠান মুখ্যমন্ত্রীকে। সেবারও আসরে নামেন মহুয়া মৈত্র ও কল্যাণ ব্যানার্জির মতো তৃণমূল সাংসদরা। রাজ্যপালের বিরুদ্ধে নির্লজ্জ রাজনীতির অভিযোগ করেন তাঁরা।

Comments
Loading...