প্রতি বছরই ২৮ শে অগাস্ট তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসের সমাবেশ হয় মেয়ো রোডে। কিন্তু এবছর এই সমাবেশ আর শুধুমাত্র ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসের সমাবেশে আটকে নেই। কার্যত তা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহর পালটা সমাবেশ। এই সমাবেশ থেকে তৃণমূল নেত্রী এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কী বার্তা দেন সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের। সম্প্রতিকালের মধ্যে মেয়ো রোডে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের যত সমাবেশ হয়েছে তাকে ছাপিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের কাছে। অতীতের ভিড়ের সব রেকর্ড মঙ্গলবার ছাপিয়ে যাবে বলে আশাবাদী তৃণমূল শিবির।

গত ১১ ই অগাস্ট এই মেয়ো রোডেই সমাবেশ করেছেন অমিত শাহ। তার কয়েকদিনের মধ্যে একই জায়গায় মঙ্গলবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমাবেশের জন্য তৃণমূল কর্মীদের মধ্যেও বাড়তি উৎসাহ তৈরি হয়েছে। রবিবার বিকেলের পর থেকেই বিভিন্ন জেলা থেকে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের কর্মী-সমর্থকরা কলকাতায় আসতে শুরু করে দিয়েছেন। অমিত শাহর বক্তব্যের পালটা জবাব দেওয়ার পাশাপাশি দলের ছাত্র সংগঠনের উদ্দেশেও নেত্রী কী বার্তা দেন সেদিকেও নজর থাকবে তৃণমূল শিবিরের। বিশেষ করে, এবছর ছাত্র ভর্তিকে কেন্দ্র করে টাকা নেওয়ার বেনজির অভিযোগ উঠেছিলে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের বিরুদ্ধে। পরিস্থিতি সামাল দিতে হস্তক্ষেপ করতে হয় খোদ মুখ্যমন্ত্রীকে। মুখ্যমন্ত্রী নিজে একাধিক কলেজে হানাও দিয়েছিলেন। কোনও জায়গায় অভিযোগ উঠলেই ব্যবস্থা নিয়ে বলেছিলেন পুলিশকে। ছাত্র পরিষদের নেতা-নেত্রীদের বিরুদ্ধে কড়া বার্তাও দিয়েছিলেন। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভানেত্রীকে সরিয়ে দেওয়ার জল্পনাও তৈরি হয়েছিল দলের অন্দরে। এই অবস্থায় মঙ্গলবারের মেয়ো রোডের সমাবেশ থেকে নেত্রী কোনও কড়া পদক্ষেপ নেন কিনা তা নিয়েও নানা জল্পনা আছে দলের মধ্যে।
এই মুহূর্তে রাজ্যের সমস্ত জেলায় পঞ্চায়েত বোর্ড গঠনের কাজ চলছে। কয়েকদিন আগেই সুপ্রিম কোর্টে পঞ্চায়েত মামলায় বড় জয় পেয়েছে রাজ্য সরকার। তারপরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফের অভিযোগ করেছিলেন, সিপিএম, বিজেপি এবং কংগ্রেস এক হয়ে রাজ্যে উন্নয়নের কাজকে ব্যাহত করার চেষ্টা করছে। পঞ্চায়েত মামলার রায়ের পরই বিরোধী দলগুলিকে এক হাত নেন তৃণমূল নেত্রী। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জেলায় তৃণমূলকে ঠেকাতে সিপিএম, বিজেপি, কংগ্রেস এবং নির্দলরা মিলে পঞ্চায়েত বোর্ড গঠন করছে বলেও একাধিক খবর সামনে এসেছে। এই বিষয় নিয়েও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরব হতে পারেন বলে মনে করছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। ২০১৬ বিধানসভা ভোটের সময় থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার অভিযোগ করেছেন, রাজ্যে সিপিএম, বিজেপি এবং কংগ্রেস একসঙ্গে মিলে কাজ করছে। সিপিএমের ভোট সরাসরি বিজেপিতে চলে যাওয়ার জন্য বিধানসভার ভেতরেও বাম নেতাদের কটাক্ষ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। পঞ্চায়েত ভোটেও বিভিন্ন জেলায় একই অভিযোগ উঠেছিল। তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব বিরোধীদের একজোট হওয়ার যে অভিযোগ করছিল, তা পঞ্চায়েত বোর্ড গঠনের সময় আরও স্পষ্ট হয়েছে বলেও শাসক শিবিরের ব্যাখ্যা। এই বিষয়টিকে সামনে রেখেও তৃণমূল নেত্রী বিরোধীদের নিশানা করতে পারেন বলে মনে করছেন দলের নেতারা।
সম্প্রতি ধর্মতলায় ২১ শে জুলাইয়ের সমাবেশ মঞ্চে সিপিএম, কংগ্রেস এবং বিজেপিকে এক যোগে তীব্র আক্রমণ করে আগামী ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে এরাজ্য থেকে ৪২ টি আসনই জেতার ডাক দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি ঘোষণা করেছিলেন, বিজেপি বিরোধী দলগুলিকে নিয়ে আগামী বছরের গোড়ায় ব্রিগেড সমাবেশ করার। তারপর অসমের নাগরিকপঞ্জি ইস্যুকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে আরও সুর চড়িয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। দিল্লিতে দাঁড়িয়ে উৎখাত করার ডাক দিয়েছেন বিজেপি সরকারকে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তীব্র বিরোধিতায় এমাসের ১১ তারিখ মেয়ো রোডেই পালটা সুর চড়িয়েছেন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহও। এই পরিস্থিতিতে ২০১৯ লোকসভা ভোটের যে প্রস্তুতি তৃণমূল শিবির শুরু করে দিয়েছে, তারই সূত্র ধরে মঙ্গলবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কী রাজনৈতিক বার্তা দেন সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।

You may also like