৪১ শতাংশ দুধের নমুনা নিম্নমানের, ৭ শতাংশ প্যাকেটজাত দুধ পানের অযোগ্য: এফএসএসএআই

দুধ না খেলে হবে না ভালো ছেলে। কিন্তু দুধ খেয়েও কি শান্তি আছে? ফুড সেফটি অ্যান্ড স্টান্ডার্ডস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া বা এফএসএসএআইয়ের রিপোর্ট জানাচ্ছে, দেশে বিক্রি হওয়া ৪১ শতাংশ দুধের নমুনা গুণমানের পরীক্ষায় পাশ করতে পারেনি। আর ৭ শতাংশ প্যাকেটজাত দুধের নমুনায় মিলেছে এমন পদার্থ যা গুরুতর শারীরিক সমস্যার কারণ হতে পারে।

শুধু কাঁচা দুধই নয়, বিভিন্ন নামীদামি ব্র্যান্ডের প্রক্রিয়াকরণ দুধেও ভেজালের অভিযোগ তুলল খাদ্য নিয়ামক সংস্থা এফএসএসএআই। প্রায় এক তৃতীয়াংশ ডেয়ারি সংস্থার প্রক্রিয়াকরণ দুধ গুণমান ও নিরাপদ মানদণ্ড পূরণ করতে অক্ষম হয়েছে।
বেশিরভাগ নামীদামি সংস্থার দুধই প্রস্তাবিত গুণমান ও নিরাপদ মাণদণ্ড পূরণ করতে পারেনি বলে এফএসএসএআইয়ের গবেষণায় প্রকাশ। শুক্রবার এফএসএসএআই-র সিইও পবন আগরওয়াল জানান, তাঁদের সদ্য সমাপ্ত গবেষণায় দেখা গিয়েছে, বিভিন্ন নামীদামি সংস্থার দুধে অ্যাফ্লোটক্সিন-এম ১, বিভিন্ন অ্যান্টিবায়োটিক ও পেস্টিসাইডের মতো মারাত্মক পদার্থ মিলেছে। যা বাচ্চা থেকে বয়স্ক সবার শরীরের পক্ষে মারাত্মক ক্ষতিকর।
২০১৮ সালের মে থেকে অক্টোবরের মধ্যে সারা দেশের প্রায় ১,১০৩ টি নগর ও শহর থেকে ৬,৪৩২ টি দুধের স্যাম্পেল সংগ্রহ করে পরীক্ষা চালায় খাদ্য নিয়ামক সংস্থা এফএসএসএআই। এই নমুনাতে যেমন নামীদামি সংস্থার দুধ রয়েছে তেমনি রয়েছে বিভিন্ন অসংগঠিত ক্ষেত্র থেকে নেওয়া দুধের নমুনা। দীর্ঘ গবেষণায় চোখ কপালে উঠেছে গবেষকদের।
এফএসএসএআই-র সাম্পতিক সমীক্ষায় ২৬০৭ টি দুধের নমুনার ১০.৪ শতাংশে নিরাপত্তাজনিত সমস্যা রয়েছে। ৩৭.৭ শতাংশ প্রক্রিয়াকরণ দুধ অন্তত একটি করে গুণমাণের মাপকাঠি পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। ৩,৮২৫ টি কাঁচা দুধের নমুনার মধ্যে ৪৭ শতাংশ নমুনা অন্তত একটি গুনমাণ মানদণ্ড পেরোতে বিফল। ৬,৪৩২ টি নমুনার মধ্যে ১২ টি দুধের নমুনা পানের অযোগ্য বলে জানাচ্ছে এফএসএসএআই। এদের মধ্যে ৬ টি নমুনাতে হাইড্রোজেন পার অক্সাইড, ২৩ টিতে ডিটারজেন্ট বা কাপড় কাচার গুড়ো সাবান, ২ টিতে ইউরিয়া এবং ১ টি দুধের নমুনায় নিউট্রালাইজার পাওয়া গিয়েছে।
১২ টি ভেজাল দুধের নমুনার মধ্যে ৯ টি তেলেঙ্গানা থেকে পাওয়া গিয়েছে। ২ টি মধ্য প্রদেশ এবং ১ টি নমুনা কেরলের। এই প্রেক্ষিতে সব ডেয়ারি সংস্থাকেই নির্ধারিত গুণমান বজায় রাখার কড়া নির্দেশিকা দিয়েছে এফএসএসএআই।

Comments
Loading...