২০১৬ সালের ৮ ই নভেম্বর নোটবন্দির ঘোষণার পর নগদ টাকার অভাবে ডিজিটাল লেনদেন শুরু হয়েছিল। কালো টাকা আটকাতে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পেটিএমের মতো ডিজিটাল মাধ্যমে আর্থিক লেনদেনে বিশেষ জোর দেওয়ার কথা বলেছিলেন। নোটবন্দির পরবর্তী সময়ে ফুটপাতের ছোট দোকানদার থেকে শপিং মল, সর্বত্রই কেনাবেচার প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠেছিল পেটিএম। ২০১৬ সালের নভেম্বর থেকে ব্যাপক জনপ্রিয় হওয়া পেটিএমের বর্তমান প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসাবে ভারতের বাজারে উঠে এসেছে গুগল পে এবং ফোন পে। কিন্তু নোটবন্দির মাত্র ৩ বছরের মধ্যে বড়সড় লোকসানের মুখে পড়েছে পেটিএম। ব্যাপক লোকসানের মুখে দাঁড়িয়েছে পেটিএম পেরেন্ট বডি ওয়ান ৯৭ কমিউনিকেশনস। গত আর্থিক বছরের তুলনায় রাজস্ব সামান্য বৃদ্ধি পেলেও সংস্থার লোকসান বেড়েছে ১৬৫ শতাংশ, এমনটাই জানাল ওয়ান ৯৭ কমিউনিকেশনস। এবিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে দ্য ইকনমিক টাইমসে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এবছর ৩১ শে মার্চ যে অর্থ বর্ষ শেষ হয়েছে, তাতে ৩,৯৬০ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে সংস্থার। যেখানে গত আর্থিক বছরে ক্ষতির বহর ছিল ১,৪৯০ কোটি টাকা।
তবে গত আর্থিক বছরের তুলনায় রাজস্বের পরিমাণ সামান্য বেড়েছে ওয়ান ৯৭ কমিউনিকেশনসের। ২০১৭-১৮ আর্থিক বছরে যেখানে ৩,২২৯ কোটি টাকা আয় হয়েছিল। আর এই আর্থিক বছরে তা ৯০ কোটি টাকা বেড়ে হয় ৩,৩১৯ কোটি টাকা। কিন্তু পেটিএম মানি, পেটিএম ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস, পেটিএম এন্টারটেইনমেন্ট ইত্যাদি সবমিলিয়ে ৪,২১৭ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে ওয়ান ৯৭ কমিউনেকশনসের। এমনটাই জানাচ্ছে দ্য ইকনমিক টাইমসের প্রতিবেদন।
আরও পড়ুন: কুমারস্বামীর শপথ অনুষ্ঠান থেকেই লোকসভার জোট প্রস্তুতি, মধ্যমনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মূলত পেটিএম ব্র্যান্ডকে প্রতিষ্ঠা দিতে বিজ্ঞাপনী খরচ এবং ব্যবসা সম্প্রসারণের কারণেই এই বিপুল ক্ষতির মুখে পড়েছে ডিজিটাল পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম, বলে মনে করা হচ্ছে। তবে সেই সঙ্গেই প্রশ্ন উঠছে, যেভাবে খরচের পাল্লা ভারী হচ্ছে তাতে বিপুল ক্ষতির বহর কমাতে না পারলে, তা সংস্থার আর্থিক স্বাস্থ্যে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে না তো?




