রাষ্ট্রের ঘোষিত শত্রু তারা। বৃহস্পতিবারও ঝাড়খণ্ডের পশ্চিম সিংভূম জেলার মানমারু-টেবো জঙ্গলে গুলির লড়াইয়ে একে অন্যকে এফোঁড় ওফোঁড় করতে উদ্যত হয়েছিল কেন্দ্রীয় আধাসামরিক বাহিনীর জওয়ান এবং মাওবাদীরা। কিন্তু সেই গুলির লড়াইয়ে আহত এক মাওবাদীর জীবন বাঁচাতে রক্তদান করে মানবিকতার দৃষ্টান্ত রাখলেন দুই সিআরপিএফ জওয়ান।

সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার ঝাড়খণ্ডের পশ্চিম সিংভূম জেলার মানমারু-টেবো অঞ্চলের জঙ্গলে আধাসামরিক বাহিনীর ৬০ নম্বর ব্যাটেলিয়ন ও ঝাড়খণ্ড রাজ্য পুলিশের যৌথ বাহিনীর সঙ্গে মাওবাদীদের প্রবল গুলির লড়াই শুরু হয়। এনকাউন্টারে নিহত হন তিন মাওবাদী। মৃতদের মধ্যে এক মহিলা মাওবাদীও রয়েছেন বলে শুক্রবার জানায় পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয় একটি একে-৪৭ এবং একটি ৩০৩ ক্যালিবার রাইফেল।

গুলির লড়াইয়ে গুরুতর জখম হয়ে সিআরপিএফ বাহিনীর হাতে ধরা পড়েন দুই মাওবাদী। তাদের একজনের অবস্থা অতি সঙ্কটজনক হয়ে পড়ে। তাকে বাঁচাতে রক্তদান করতে দুবার ভাবেননি দুই সিআরপিএফ কনস্টেবল ওমপ্রকাশ যাদব ও সন্দীপ কুমার। মনোজ হেসসা নামে গুরুতর জখম ওই মাওবাদীকে রক্ত দিতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাঁরা পৌঁছে যান টাটানগর হাসপাতালে।

সিআরপিএফ কনস্টেবল ওমপ্রকাশ যাদবের কথায়, আমি জানি, ওরা আমাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে। আমরাই ওদের শত্রু। অন্যদিকে, আমরাও মাওবাদীদের বিরুদ্ধে বন্দুক হাতে মিশনে নেমেছি। কিন্তু, সবকিছুর ঊর্ধ্বে মানবিকতা। সেই মানবিকতার খাতিরেই আমি আমার ভূমিকা পালন করেছি মাত্র।

তবে এই প্রথম নয়। এর আগেও একাধিকবার বিপন্নকে রক্ত দিয়ে বাঁচিয়েছেন ৩৬ বছর বয়সি এই আধাসামরিক বাহিনীর জওয়ান। যাদবের নিজের বাড়িও ঝাড়খণ্ডেরই ধানবাদে। ২০০৬ সালে তিনি যোগ দেন আধাসামরিক বাহিনীতে। তাঁর কথায়, আমি মনে করি না, রক্তদানের মতো আর কোনও জীবনদায়ী উপহার আছে। তাই যখন প্রয়োজন পড়েছে, নির্দ্বিধায় অন্যকে রক্ত দিয়েছি।

ওমপ্রকাশ যাদবের সহকর্মী, আর এক জওয়ান, ৩০ বছরের সন্দীপ কুমার বলেন, গুলি করতেই তো আমরা বাহিনীতে ঢুকেছি। জাতির প্রতি আমাদের কর্তব্য রক্ষার জন্য শত্রুদের গুলি করতে হয়। কিন্তু কোনও বিপন্নের জীবন বাঁচানোও তো আর এক কর্তব্য। রাজস্থানের ঝুনঝুনু জেলার বাসিন্দা কুমার সিআরপিএফে রয়েছেন ২০১০ সাল থেকে।

সিআরপিএফ সূত্রে খবর, আহত মাওবাদী মনোজের শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল।

এই ঘটনা প্রসঙ্গে সিআরপিএফের মুখপাত্র ডেপুটি ইনস্পেক্টর জেনারেল মোসেস দিনাকরণ দিল্লিতে জানান, দুই জওয়ানকে নিয়ে আমরা গর্বিত। জখম মাওবাদীকে বাঁচাতে নিজেদের রক্ত দিয়ে ওঁরা দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন।

ধারাবাহিকভাবে পাশে থাকার জন্য The Bengal Story র পাঠকদের ধন্যবাদ। আমরা যে ধরনের খবর করি, তা আরও ভালোভাবে করতে আপনাদের সাহায্য আমাদের উৎসাহিত করবে।

Login Support us

You may also like

Varavara Rao Taken To The Hospital