‘জাতীয় স্বার্থে’ কাশ্মীরে মিডিয়া-কার্ফু তুলতে দায়ের মামলায় পক্ষ হতে আবেদন প্রেস কাউন্সিলের, বিস্মিত সাংবাদিক মহল

দেশের অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জম্মু-কাশ্মীরে সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমের ওপর নিষেধাজ্ঞাকে কার্যত সমর্থন জানাল প্রেস কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষাই যে সংগঠনের কাজ, তাদের এমন পদক্ষেপে বিস্মিত দেশের সাংবাদিক মহল।
জম্মু-কাশ্মীরের উপর থেকে বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহারের প্রেক্ষিতে উপত্যকা জুড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না কোনও সংবাদমাধ্যম, এমনই অভিযোগ করে গত ১০ ই অগাস্ট সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন দাখিল করেন ‘কাশ্মীর টাইমস’ এর এক্সিকিউটিভ এডিটর অনুরাধা ভাসিন। কাশ্মীর টাইমসের এক্সিকিউটিভ এডিটরের দায়ের এই মামলায় পক্ষ হতে চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি চেয়েছে প্রেস কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া। এই মামলায় রায় দেওয়ার আগে সুপ্রিম কোর্ট যেন প্রেস কাউন্সিলের বক্তব্য যেন শোনে, এমনটাই লেখা হয়েছে পিটিশনে। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং আন্তর্জাতিক স্বার্থেই তারা এই কাজ করছেন বলে প্রেস কাউন্সিল সূত্রে খবর।
দেশের সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রাখাই যাদের কাজ, সেই প্রেস কাউন্সিল তাদের আবেদনে জানিয়েছে, দেশের অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য উপত্যকার যোগাযোগ ব্যবস্থা ও স্বাধীন ঘোরাফেরায় নিষেধাজ্ঞা জারি রাখা সঙ্গত। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক স্বার্থেও তা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করে প্রেস কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া।
পিসিআইয়ের এই পদক্ষেপ নিয়ে কাউন্সিলের অনেক সদস্যই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। সর্বভারতীয় নিউজ পোর্টাল ‘The Wire’এ প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, উপত্যকায় সংবাদমাধ্যমের প্রকৃত অবস্থা জানার জন্য গত বৃহস্পতিবার একটি বৈঠক ডাকে পিসিআই। সেখানে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি তৈরি করে তাদের কাশ্মীরের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে পাঠানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। কিন্তু এর মধ্যে ভাসিনের দায়ের করা মামলায় হস্তক্ষেপের কোনও আলোচনা হয়নি বলেই জানাচ্ছেন বৈঠকে উপস্থিত সদস্যদের একাংশ। সূত্রের খবর, বৈঠকে পিসিআইয়ের চেয়ারম্যান বিচারপতি সি কে প্রসাদকে এক সদস্য জানিয়েছিলেন, বিভিন্ন চ্যানেল বা খবরের কাগজ তো বটেই, শ্রীনগরে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না সংবাদ সংস্থাগুলিও। কাশ্মীরে এই মুহূর্তে কী চলছে তা সারা বিশ্বের মানুষের জানার জন্য এই অবস্থার নিরসন প্রয়োজন। অন্য এক সদস্য বলেন, জম্মু-কাশ্মীরের সংবাদপত্রগুলোর ওয়েবসাইট ২ সপ্তাহ ধরে আপডেট হয়নি। তারপরেও কোনও আলোচনা ছাড়া যেভাবে অনুরাধা ভাসিনের মামলায় পক্ষ হতে চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করা হয়েছে, তা নিয়ে অনেক সদস্যই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। পিটিশনে যেসব শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে তা নিয়েও কাউন্সিলের অনেকে আপত্তি তুলছেন।
প্রসঙ্গত, ১০ ই অগাস্ট সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া পিটিশনে কাশ্মীর টাইমসের সম্পাদক অনুরাধা ভাসিন জানান, উপত্যকা জুড়ে অঘোষিত কার্ফু জারি হওয়ায় মত প্রকাশের স্বাধীনতা বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। চিত্র সাংবাদিক ও রিপোর্টারদের চলাফেরায় বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ কাশ্মীর টাইমসের এডিটরের। দৈনিক সাড়ে ৩ লক্ষ সার্কুলেশন সম্পন্ন এই সংবাদপত্রের এক্সিকিউটিভ এডিটর অভিযোগ করেন, উপত্যকায় মোবাইল ও টেলিফোন নেটওয়ার্ক সহ সবরকম যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পিটিশনে বলা হয়, সংবাদমাধ্যমে অঘোষিত নিষেধাজ্ঞার ফলে জম্মু-কাশ্মীরের নাগরিকই জানতে পারছেন না রাজ্য থেকে বিশেষ মর্যাদা সরিয়ে নেওয়ার পর বর্তমান ও ভবিষ্যৎ জীবন-যাপনে কী প্রভাব পড়তে চলেছে।

Comments
Loading...