প্রধানমন্ত্রীর মানসিক অবস্থা বুঝতে পারছি, রাফাল নিয়ে তদন্ত হলে শেষ হয়ে যাবে তাঁর রাজনৈতিক জীবন, মোদীকে তীব্র আক্রমণ রাহুলের

ভয় পেয়েছে সরকার। ফ্রান্সের সঙ্গে ভারতের রাফাল চুক্তি নিয়ে সঠিক তদন্ত হলে শেষ হয়ে যাবে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক কেরিয়ার, তাই তা বন্ধ করতেই প্রাক্তন সিবিআই প্রধান অলোক ভার্মাকে রাতের অন্ধকারে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হল। বৃহস্পতিবার দিল্লিতে এক সাংবাদিক বৈঠক করে কেন্দ্র এবং প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এমন ভাষাতেই আক্রমণ শানালেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী।
এদিন রাহুল অভিযোগ করেন, ভারতীয় সংবিধান ও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে অমান্য করে সিবিআই-এর মতো একটি স্বাধীন তদন্তকারী সংস্থার কাজে হস্তক্ষেপ করেছে মোদী সরকার। তবে শুধু একা রাহুল একা নন, অলোক ভার্মার অপসারণের পর বুধবার সকাল থেকে প্রায় গোটা বিরোধী শিবির এই একই অভিযোগে সরব হয়েছে। তাদের অভিযোগ, সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে রাফাল নিয়ে সিবিআই তদন্তের যে দাবি উঠেছিল এবং তারপর এই চুক্তি নিয়ে ভার্মা যেভাবে ধীরে ধীরে তৎপর হওয়ার চেষ্টা করছিলেন, তা ভালো চোখে নেয়নি সরকার। তাই গোটা বিষয় ধামাচাপা দিতেই তাঁকে রাতের অন্ধকারে সিবিআই প্রধানের পদ থেকে থেকে সরানো হল।
রাহুল এদিন বলেন, এতো কিছু করেও প্রধানমন্ত্রী কোথাও পালাতে পারবেন না, যেখানেই লুকানোর চেষ্টা তিনি করুন না কেন, ধরা তিনি পড়বেনই। রাহুলের কথায়, তিনি প্রধানমন্ত্রীর মানসিক অবস্থা বুঝতে পারছেন। মোদী রাফাল নিয়ে দুর্নীতি করেছেন, তাই এখন লুকোতে চাইছেন, ভয় পাচ্ছেন। রাহুলের প্রশ্ন, দেশের একজন প্রধানমন্ত্রীকে গোটা বিরোধী শিবির চোর, দুর্নীতিগ্রস্থ বলছে, অথচ তিনি মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছেন। কোনও রা কাটছেন না, কেন? সিবিআই প্রধানকে এভাবে অপসারণের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার দিল্লিতে সিবিআই সদর দফতরের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শনের কর্মসূচি নিয়েছে কংগ্রেস।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি রাফাল চুক্তি নিয়ে নয়া বোমা ফাটায় ফরাসি তদন্তমূলক জার্নাল ‘মিডিয়াপার্ট’। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডি টিভি’র রিপোর্ট অনুযায়ী, ‘মিডিয়াপার্ট’ নামের ওই ফরাসি জার্নালটি রাফাল চুক্তি নিয়ে একটি আর্টকেল লিখেছে। সেখানে এই চুক্তির অন্যতম অংশ ফরাসি সংস্থা রাফাল প্রস্তুতকারী ড্যাসল্টের কিছু গোপন নথির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যাতে বলা হয়েছে, ওই নথিতে নাকি স্পষ্ট বলা হয়েছে, ভারতের থেকে এই যুদ্ধ বিমানের বরাত পেতে রিলায়েন্সের সাথে চুক্তি করার শর্তটি ছিল বাধ্যতামূলক। অন্যথায় এই চুক্তি করা যেত না। মাস খানেক আগে এই একই দাবি করেছিলেন প্রাক্তন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রসোঁয়া ওলাদ। তিনি দাবি করেন, ভারতের সঙ্গে রাফাল চুক্তির সময় ‘অফসেট ক্লজ’ এর আওতায় ড্যাসল্টের সাথে রিলায়েন্স ডিফেন্সের যে অংশীদারিত্বের চুক্তি হয়েছিল, তাতে ফরাসি সরকার কোনও হস্তক্ষেপ করেনি। কিন্তু ভারত সরকারের তরফেই ড্যাসল্ট এর কাছে শুধুমাত্র অনিল আম্বানীর ওই সংস্থার নামই প্রস্তাব করা হয়েছিল।
যদিও মোদি সরকারের তরফে ওলাদের এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলা হয়েছে, ওই অফসেট চুক্তিতে কোনও ভূমিকা তাদের ছিল না। একই দাবি করে বর্তমান ফরাসি সরকার এবং ড্যাসল্ট অ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষ।

Comments
Loading...