রাফাল চুক্তিতে নিয়ে প্রাক্তন ফরাসি রাষ্ট্রপতির কথা টেনে মোদীকে ‘মিথেবাদী’ আক্রমণ রাহুলের

ভারত-ফ্রান্সের মধ্যে মাল্টি মিলিয়ন ডলারের রাফাল চুক্তি নিয়ে চলতি বিতর্কের মাঝে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল ফ্রান্স সরকার। শুক্রবার (ভারতীয় সময়ে শনিবার) ফ্রান্সের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে বিবৃতি জারি করে বলা হয়েছে, এই চুক্তিতে ভারতের তরফে কোন সংস্থাকে অংশীদার করা হবে তা নির্বাচনে ফ্রান্স সরকারের কোনও ভূমিকা ছিল না। শুধুমাত্র চুক্তি অনুযায়ী যুদ্ধ বিমানের ঠিকঠাক সরবরাহ ও সেগুলির গুণগত মান ঠিক রাখার দিকেই নজর দিয়েছে ফ্রান্স সরকার। ফ্রান্সের তরফে প্রকাশিত এই বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ভারতের কোন সংস্থার সঙ্গে অংশীদারিত্বের চুক্তি করবে ড্যাসল্ট অ্যাভিয়েশন, তার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা স্বাধীনভাবে ওই সংস্থার উপরই ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। আলাপ আলোচনার ভিত্তিতে তারাই অনিল আম্বানীর রিলায়েন্স ডিফেন্সকে বেছে নিয়েছে।
ফ্রান্সের ড্যাসল্ট অ্যাভিয়েশনের তরফে প্রকাশিত এক বিবৃতিতেও বলা হয়েছে, মেক ইন ইন্ডিয়ার নীতি মেনে ও ডিফেন্স প্রকিওরমেন্ট প্রসিডিওর (ডিপিপি) ২০১৬ রেগুলেশন অনুযায়ী ড্যাসল্ট অ্যাভিয়েয়েশন এর সাথে রিলায়েন্স ডিফেন্সের অংশীদারিত্বের ব্যবসায়িক চুক্তি হয়েছে। এতে ফ্রান্স সরকারের কোনও ভূমিকা নেই। তারাই রিলায়েন্স ডিফেন্সকে বেছে নিয়েছে। সংস্থার তরফে এও জানানো হয়েছে, ৩৬ টি রাফাল যুদ্ধ বিমান কেনা নিয়ে দুই দেশের সরকারের যে মূল চুক্তি হয়, তার থেকে এই দুই বাণিজ্যিক সংস্থার ব্যবসায়িক চুক্তি সম্পূর্ণ আলাদা। অফসেট ক্লজ অনুযায়ী মূল চুক্তির পাশাপাশি পৃথকভাবে এই বানিজ্যিক চুক্তি করা হয়েছে।
ভারত সরকারের তরফেও জানানো হয়েছে, ড্যাসল্ট অ্যাভিয়েশনের সঙ্গে অনিল আম্বানীর রিলায়েন্স ডিফেন্সের চুক্তির বিষয়ে সরকারের তরফে কোনও হস্তক্ষেপ করা হয়নি। উল্লেখ্য, শুক্রবার ভারত-ফ্রান্স রাফাল চুক্তি নিয়ে এক ফরাসি সংবাদমাধ্যমে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন প্রাক্তন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রসোঁয়া ওঁলাদ। তিনি দাবি করেন, ওই চুক্তির সময় অনিল আম্বানীর সংস্থার নাম ভারত সরকারের তরফেই প্রস্তাব করা হয়েছিল এবং এ নিয়ে অন্য কোনও বিকল্প তাঁদের দেওয়া হয়নি। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে ওই একটি সংস্থার নামই জানানো হয়েছিল। তাঁর দাবি, মূল চুক্তির মধ্যে যে ‘অফসেট ক্লজ’ ছিল তার জন্য চুক্তি হয় ফ্রান্সের তরফে ড্যাসল্ট অ্যাভিয়েশন ও ভারতের তরফে অনিল আম্বানীর রিলায়েন্স ডিফেন্সের মধ্যে এবং ভারতের তফে অন্য কোনও সংস্থার নাম দেওয়া না হওয়ায়, আম্বানীর এই সংস্থার সাথেই দড় কষাকষি করে চুক্তি চূড়ান্ত করে ড্যাসল্ট অ্যাভিয়েশন। শনিবার এক ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে ফ্রসোঁয়া ওঁলাদের অফিসের তরফে জানানো হয়েছে, ফ্রান্স সরকার ও ড্যাসল্ট অ্যাভিয়েশন সহমত না হলেও নিজের বক্তব্যে অটল রয়েছেন প্রাক্তন ফরাসি প্রেসিডেন্ট।
যদিও ফ্রান্স সরকার ও ড্যাসল্ট অয়াভিয়েশনের এই বিবৃতির পরও এই ইস্যুতে পিছু হঠতে রাজি নয় কংগ্রেস। দলের সভাপতি রাহুল গান্ধী শনিবার সকালে ট্যুইট করে জানিয়েছেন, ১.৩ লক্ষ কোটি টাকার এই চুক্তি আসলে ভারতের নিরাপত্তা বাহিনীর উপর এক সার্জিকাল স্ট্রাইক, যা যৌথভাবে করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও শিল্পপতি অনিল আম্বানী। রাহুলের দাবি, ভারতের আত্মার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা ও সেনার রক্তকে অপমান করেছেন নরেন্দ্র মোদী। পরে এক সাংবাদিক বৈঠকে রাহুল এদিন বলেন, প্রাক্তন ফরাসি প্রেসিডেন্ট তো ঘুরিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে মিথ্যাবাদী বললেন, তাহলে এর প্রতিবাদ না জানিয়ে মোদী এখনও চুপ করে আছে কেন? প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতি দাবি করেছেন রাহুল।  কংগ্রেসের তরফে প্রথম থেকেই দাবি করা হচ্ছে, মনমোহন সিংহের জমানায় এই যুদ্ধ বিমান কেনা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছিল এবং চুক্তির খসড়াও অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছিল, যা পরবর্তীকালে বিজেপি সরকার এসে সম্পূর্ণ করে কিন্তু তারই মাঝে চুক্তিতে কিছু পরিবর্তন করে মোদী ঘনিষ্ঠ শিল্পপতি অনিল আম্বানীকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়া হয়েছে।এই বিবৃতী দিতে কে বা কারা বাধ্য করেছেন তা জানতে হবে। অন্যদিকে ফ্রসঁয়া ওলাদের বিবৃতীর পর সিপিএম বলেছে, এর থেকেই প্রমানিত হইয় যে এটি একটি বহু কোটি টাকার দূর্নীতির ঘটনা।

Comments
Loading...