প্রবল চাপের মুখে অবশেষে প্যারোলের আবেদন ফিরিয়ে নিল ধর্ষক রামরহিম

নিজের জমিতে চাষ করতে চেয়ে জেল থেকে প্যারোলে মুক্তি চেয়েছিল ধর্ষক রামরহিম। আর সেই আবেদনের কথা প্রকাশ্যে আসতেই দেশজুড়ে শুরু হয় প্রবল সমালোচনা। বিরোধীরা অভিযোগ করে, আসন্ন বিধানসভা ভোটের কথা মাথায় রেখে ধর্ষক রামরহিমকে জেল থেকে বের করতে মরিয়া বিজেপি। সম্মিলিত চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত প্যারোলের আবেদন ফিরিয়ে নিল ধর্ষণ এবং খুনের দায়ে জেল খাটা স্বঘোষিত ধর্মগুরু রামরহিম।

২১ শে জুন রামরহিমের প্যারোলে মুক্তির আবেদন পেশ হয়। সেই আবেদনে ধর্ষক রামরহিম জানায়, সিরসায় নিজের জমিতে চাষবাস করতে তার ৪২ দিনের ছুটি প্রয়োজন। অথচ রামরহিমের নামে কোনও চাষের জমি নেই। সাংবাদিক খুনে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশের ছয় মাসের মধ্যে প্যারোলে মুক্তির সেই আবেদন গ্রহণও করে জেলা প্রশাসন। রোহতকের জেল সুপারিনটেনডেন্ট রাম রহিমের ‘ভালো ব্যবহারের’ প্রশংসা করে হরিয়ানার সিরসা জেলা প্রশাসনের কাছে সার্টিফিকেটও দেন। রামরহিমের প্যারোলে মুক্তির আবেদনে সম্মতি জানায় হরিয়ানা সরকার।
এদিকে হরিয়ানার বিধানসভা ভোটের কয়েকমাস আগে রাম রহিমের প্যারোলে মুক্তি প্রসঙ্গে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়। ডেরার দুই সাধ্বীকে ধর্ষণ ও সাংবাদিক রামচন্দ্র ছত্রপতিকে খুনের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত রামরহিমের পাশে দাঁড়িয়ে হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী মনোহরলাল খাট্টার মন্তব্য করেন, যে কোনও আসামীর মতো ধর্ষণ ও খুনের দায়ে গ্রেফতার হওয়া রাম রহিমেরও অধিকার আছে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করার।
রামরহিমের প্যারোলে মুক্তির খবর পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েছিলেন মৃত সাংবাদিক রামচন্দ্র ছত্রপতির পুত্র অংশুল ছত্রপতি। জানিয়েছিলেন, রামরহিমের বিরুদ্ধে খবর পরিবেশনের জন্য খুন হতে হয় তাঁর বাবাকে। রামরহিম প্যারোলে মুক্তি পেলে তাঁদের জীবনও সংশয়ের মুখে পড়বে। রামরহিমের প্যারোলে মুক্তি আটকাতে প্রয়োজনে ফের আদালতে যাবেন বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।

এই পরিস্থিতিতে চাপ ক্রমেই বাড়তে থাকে। হরিয়ানার বিজেপি সরকারের উপরও চাপ আসতে থাকে। শেষ পর্যন্ত দেশজুড়ে প্রবল বিতর্কের মুখে পড়ে রামরহিম নিজেই প্যারোলের আবেদন ফিরিয়ে নিয়েছে বলে খবর।
গত এপ্রিলে পালিতা কন্যার বিয়েতে উপস্থিত থাকতে চেয়ে অন্তর্বর্তী জামিনের আবেদন করেছিল রামরহিম। সেবারও নিজেই আবেদন ফিরিয়ে নেয় খুন ও ধর্ষণে সাজাপ্রাপ্ত ডেরা সাচ্চা সওদার প্রধান গুরমিত রামরহিম।

Comments are closed.