জয় শাহ মানহানি মামলা: নিউজ পোর্টাল The Wire এর মামলা প্রত্যাহারে অনুমতি সুপ্রিম কোর্টের

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পুত্র জয় শাহের দায়ের করা মানহানি মামলাকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল নিউজ পোর্টাল The Wire। এবার The Wire কে সেই আবেদন প্রত্যাহার করে নেওয়ার অনুমতি দিল সুপ্রিম কোর্ট। পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমের ‘সংস্কৃতি’র সমালোচনা শীর্ষ আদালতের। সংশ্লিষ্ট নিউজ পোর্টালের হয়ে আইনজীবী কপিল সিব্বলের প্রত্যুত্তরে উত্তপ্ত হল কোর্টরুম।
The Wire এ প্রকাশিত এক রিপোর্টের প্রেক্ষিতে ২০১৭ সালে তাদের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করেন অমিত শাহের পুত্র জয় শাহ। সংশ্লিষ্ট পোর্টালের একটি প্রতিবেদনে প্রকাশ হয়, ২০১৪ সালে মোদী সরকারের ক্ষমতায় আসার পর কীভাবে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহর পুত্রের ব্যবসার বাড়বাড়ন্ত হয়। এই প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে গুজরাত হাইকোর্টে The Wire এর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেন জয় শাহ। পাশাপাশি সম্মানহানির জন্য ১০০ কোটি টাকা দাবি করেন অমিত পুত্র।
গুজরাত হাইকোর্টে দায়ের হওয়া এই মামলাকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে গেলেও, মঙ্গলবার এই মামলা প্রত্যাহারের জন্য আবেদন করে সংশ্লিষ্ট নিউজ পোর্টাল। শীর্ষ আদালত এই আবেদন গ্রহণ করলেও বিচারপতিদের কড়া সমালোচনার মুখে পড়তে হয় The Wireকে।
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি অরুণ মিশ্র, বিচারপতি এম আর শাহ ও বিচারপতি বি আর গাভাইয়ের ডিভিশন বেঞ্চের কটাক্ষ, এটা সাংবাদিকতার কোন সংস্কৃতি, যেখানে রাতে নোটিস পাঠিয়ে সকালে খবর পরিবেশন করা হয়? যাঁকে নোটিস পাঠাচ্ছেন, জবাব তৈরি করতে তাঁর সময় লাগবে না? আইজীবী সিব্বলকে প্রশ্ন বিচারপতিদের।
সংশ্লিষ্ট নিউজ পোর্টালের পক্ষে আইনজীবী কপিল সিব্বল এই মামলা তুলে নেওয়ার আবেদন জানান। বলেন, গুজরাতের যেকোনও আদালতে বিচারের মুখোমুখি হতে রাজি তাঁরা। বিচারপতি গাভাই বলেন, এটা কি ইয়েলো জার্নালিজম নয়? এর পাল্টা মন্তব্য করেন আইনজীবী সিব্বল। বলেন, মাননীয় বিচারপতিরা যদি নিউজ চ্যানেলগুলি দেখতেন। বিচারপতি গাভাই পাল্টা জানান, এসব দেখার সময় নেই তাঁদের।
দীর্ঘ সওয়াল জবাবের পর The Wire এর দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের অনুমতি দিলেও, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কড়া মন্তব্য করেন বিচারপতি অরুণ মিশ্র। বলেন, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা অবশ্যই কাম্য, কিন্তু এটা ওয়ানওয়ে ট্র্যাফিক হতে পারে না। এরপরেই জয় শাহের দায়ের করা মানহানির মামলা ৬ মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন। তখনই আইনজীবী কপিল সিব্বল প্রশ্ন করেন, এরকম কোনও কথা আদালত কীভাবে বলতে পারে? এনিয়ে কপিল সিব্বলের সঙ্গে আলোচনার পর সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সংশ্লিষ্ট মামলার নিষ্পত্তি হোক।
একটা পর্যায়ে গিয়ে বিচারপতি মিশ্র বলেন, তাঁদের অনেক কিছুই বলার আছে, কিন্তু বলবেন না। উত্তরে আইনজীবী সিব্বলও বলেন, তিনিও অনেক কিছু বলতে চান, কিন্তু বলছেন না।

Comments are closed.