উন্নাও গণধর্ষণ কাণ্ডের নির্যাতিতা এবং তাঁর পরিবারকে হেনস্থার অভিযোগ, উত্তর প্রদেশ সরকারকে নোটিশ জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের

তদন্তের নামে উন্নাওয়ের ধর্ষিতা এবং তাঁর পরিবারকে হেনস্থা করছে উত্তর প্রদেশ সরকারের তদন্তকারী সংস্থাগুলি। চাপ দেওয়া হচ্ছে অভিযুক্ত বিজেপি বিধায়কের উপর থেকে অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেওয়ার জন্য। সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে উন্নাওয়ের নির্যাতিতার এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। যার প্রেক্ষিতে এবার স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মিডিয়া রিপোর্টের ভিত্তিতে উত্তর প্রদেশ সরকারকে নোটিশ পাঠালো জাতীয় মানবাধিকার কমিশন।
শুক্রবার কমিশনের তরফে পাঠানো এই নোটিশে তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে যোগী আদিত্যনাথ প্রশাসনের। বলা হয়েছে, এই অভিযোগ সত্যি হলে, সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার যে অধিকার নির্যাতিতা ও তাঁর পরিবারের রয়েছে তা লঙ্ঘিত হয়েছে বলেই ধরে নিতে হবে। কমিশন মনে করিয়ে দিয়েছে, নির্যাতিতা, তাঁর পরিবার ও সাক্ষীদের নিরাপত্তার দায়িত্ব রাজ্য প্রশাসনেরই। কমিশন রাজ্যের মুখ্য সচিবকে নির্দেশ দিয়েছে, গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ও ভবিষ্যতে যাতে এরকম কোনও হেনস্থার সম্মুখীন নির্যাতিতা ও তাঁর পরিবারকে হতে না হয় তা নিশ্চিত করতে। কমিশন লিখেছে, এর আগে এই মামলার প্রেক্ষিতে ২০১৮ সালের ১০ ই এপ্রিল উত্তর প্রদেশ সরকারকে তারা কিছু নির্দেশ দিয়েছিল, কিন্তু তাও মানা হয়নি। গোটা বিষয়ে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে রাজ্যের মুখ্য সচিব ও রাজ্য পুলিশের ডিজির রিপোর্ট তলব করেছে কমিশন।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ৪ ই জুন উত্তর প্রদেশের উন্নাওতে এক নাবালিকাকে গণধর্ষণের ঘটনা সামনে আসে। ঘটনায় নাম জড়ায় রাজ্যের বিজেপি বিধায়ক কুলদীপ সিংহ সেনগারের। ঘটনার তদন্তভার দেওয়া হয় সিবিআইকে। সিবিআই তাদের জমা দেওয়া চার্জশিটে ওই বিধায়কের নাম অন্যতম অভিযুক্ত হিসাবে উল্লেখ করে। চলতি বছরের ১৩ জুলাই মামলার দ্বিতীয় চার্জশিটও জমা পড়ে, যেখানে ওই বিধায়ক ছাড়াও তাঁর ভাই ও তিন পুলিশ কর্মীর নাম বলা হয়। অভিযোগ, গণ ধর্ষণের এই ঘটনায় অভিযুক্তের তালিকা থেকে ওই বিধায়কের নাম বাদ দেওয়ার জন্য চাপ তৈরি করতে নির্যাতিতার বাবাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। চলতি বছরের ৮ এপ্রিল বিচারাধীন অবস্থাতেই মৃত্যু হয় নির্যাতিতার বাবার। তারপরও নির্যাতিতার পরিবারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। তার পরিপ্রেক্ষিতে উত্তর প্রদেশ সরকারকে নোটিশ পাঠালো জাতীয় মানবাধিকার কমিশন।

Comments
Loading...