চিন-ভারত দ্বন্দ্বের মধ্যেই চিনা কনস্যুলেটকে বিলাসবহুল বাংলো প্রায় ৫ লক্ষ টাকায় ভাড়া দিলেন জি কর্ণধার ও বিজেপি সাংসদ সুভাষ চন্দ্র!

জি মিডিয়া গ্রুপের কর্ণধার তথা বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ সুভাষ চন্দ্রের বিলাসবহুল বাংলোয় ভাড়া আছেন চিনা কনসুলেট!

ভারত-চিন দ্বন্দ্বে যখন চরমে পৌঁছেছে, জি নিউজ সংবাদমাধ্যম যখন চিনা পণ্য বয়কটের প্রচার করছে, সেই সময়ে খোদ জি গ্রুপের কর্ণধার নিজের বাংলো ভাড়া দিয়েছেন এক চিনা রাষ্ট্রদূতকে!

newslaunndry.com এর একটি প্রতিবেদনে প্রকাশ, গত ২৯ জুন চিনা কনসুলেট হুয়াং জিয়াং -এর সঙ্গে একটি এগ্রিমেন্ট করেন সুভাষ চন্দ্র। এই এগ্রিমেন্ট অনুযায়ী সুভাষ চন্দ্র তাঁর মুম্বইয়ের কাফ প্যারেডের বিলাসবহুল বাংলো আগামী ২ বছরের জন্য ভাড়া দিয়েছেন চিনা কনসুলেট হুয়াং জিয়াংকে। রিয়েল এস্টেট ওয়েবসাইট Square Feat India -র একটি তথ্য উদ্ধৃত করে নিউজ লন্ড্রি জানাচ্ছে, গত ২ জুলাই মুম্বাইয়ে এই বাংলো ভাড়ার রেজিস্ট্রির কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ১৫ জুন গালওয়ানের পেট্রোলিং পয়েন্ট-১৪-র অদূরে চিনা সেনার সঙ্গে সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় সেনা শহিদ হন। তার পর থেকে চরমে উঠেছে ভারত-চিন দ্বন্দ্ব। চিনা পণ্যের আমদানি ঠেকাতে বেশ কিছু পদক্ষেপ করেছে কেন্দ্র। এ দেশে নিষিদ্ধ হয়েছে বেশ কিছু চিনা অ্যাপ। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়েই চিনা কনসুলেটকে নিজের বিলাসবহুল বাংলো ভাড়া দিয়েছেন রাজ্যসভার সাংসদ তথা মিডিয়া ব্যারন সুভাষ চন্দ্র!

নিউজ লন্ড্রি সূত্রে খবর, ওই বাংলোর প্রতি মাসে ভাড়া ৪ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা। এই জুলাই মাস থেকে সেখানে থাকার জন্য চিনা কনসুলেটের হাতে বাংলোর চাবি তুলে দেওয়া হয়েছে। স্কোয়ার ফিট ইন্ডিয়া ওয়েবসাইটের প্রতিষ্ঠাতা বরুণ সিংহ নিজের ট্যুইটার হ্যান্ডেলে এই এগ্রিমেন্ট পেপারের ছবি তুলে ধরেছেন।

দক্ষিণ মুম্বইয়ের কাফ প্যারেডের জলি মেকার-১ হল এই বাংলোর ঠিকানা। সংশ্লিষ্ট রিয়েল এস্টেট পোর্টালের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২,৫৯০ স্কোয়ার ফিট কার্পেট এরিয়ার এই বাংলোর গ্রাউন্ড ফ্লোরে রয়েছে একটি লিভিং রুম ও একটি কিচেন। ফার্স্ট ফ্লোরে আছে তিনটি বেড রুম, একটি বাচ্চাদের বেড রুম। বাংলোর সেকেন্ড ফ্লোরে আছে একটি বেড রুম। তাছাড়া চিনা কনসুলেট পাচ্ছেন গাড়ি পার্কিংয়ের দুটি জায়গা। শুধুমাত্র বসবাসের জন্যই এই বাংলো ভাড়া দেওয়া হয়েছে বলে জানাচ্ছে সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট। বাড়ি ভাড়ার আইনি কাগজ অনুযায়ী, যদি কোনও পক্ষ নয় মাস মেয়াদের আগে বাংলো ছাড়তে চায় অথবা ছাড়াতে চায়, তবে তিনমাসের নোটিস দিতে হবে। আবার যেহেতু চিনা কনসুলেট বাংলোটি ভাড়া নিচ্ছেন, ভবিষ্যতে কোনও কূটনৈতিক সংক্রান্ত সমস্যা দেখা দিলে তখন ওই এগ্রিমেন্টের অন্যথাও হতে পারে বলে খবর। এই বাংলো ভাড়ার অ্যাডভান্স হিসেবে সুভাষ চন্দ্রকে চেকের মাধ্যমে ৫৮ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা দিয়েছেন ওই চিনা কনসুলেট। তার মধ্যে রয়েছে নয় মাসের অগ্রিম বাড়ি ভাড়া এবং রিফান্ডেবল ডিপোজিট হিসেবে আছে ১৪ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা।

 

 

Comments
Loading...