রাজ্যে সংক্রমণ ছড়াতেই পাঠানো হয়েছিল খারাপ কিট! বিস্ফোরক অভিযোগ কাকলির, ফের ধনখড়কে নিশানা তৃণমূলের

করোনা ইস্যুতে এবার কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সাংঘাতিক অভিযোগ আনল তৃণমূল। বুধবার সাংবাদিক বৈঠক থেকে সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদার অভিযোগ করলেন, রাজ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে দেওয়ার জন্যই খারাপ কিট পাঠিয়েছিল কেন্দ্র। এর পাশাপাশি, এদিনও সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যপালকে নিশানা করেন তৃণমূলের দুই সাংসদ সুদীপ ব্যানার্জি ও ডেরেক ও’ব্রায়েন।
কেন্দ্রের পাঠানো ত্রুটিপূর্ণ কিট নিয়ে এদিন বিস্ফোরক ইঙ্গিত করেন কাকলি ঘোষদস্তিদার। তাঁর প্রশ্ন, বাংলায় করোনাভাইরাস সংক্রমণকে ছড়িয়ে দিতেই কি ত্রুটিপূর্ণ কিট সরবরাহ করা হয়েছিল? তিনি বলেন, বিজেপির আইটি সেল সোশ্যাল মিডিয়ায় মিথ্যাচার চালাচ্ছে। বাংলাকে টার্গেট করে বিজেপির সার্বিক ব্যর্থতা থেকে নজর ঘোরাতে চাইছে। কাকলি অভিযোগ করেন, আরোগ্য সেতু অ্যাপে আসলে আপনাদের উপর গোয়েন্দাগিরি করা হচ্ছে। কাজের কাজ কিছু হবে না। সরকার বরং অনুসরণ করুক কীভাবে প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়াতে সফলভাবে কন্টাক্ট ট্রেসিং করা হয়েছে। তাঁর পরামর্শ, হেলিকপ্টারে ফুল না ছড়িয়ে স্বাস্থ্য কর্মীদের হাতে পিপিই তুলে দিক কেন্দ্র।
ইতিমধ্যেই করোনা দেখতে রাজ্যে আসা কেন্দ্রীয় দলের গাড়ির চালক সহ বেশ কয়েকজন বিএসএফ জওয়ানের করোনা ধরা পড়েছে। সেই ঘটনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল সরকার। এবার সরাসরি খারাপ কিটের প্রসঙ্গ তুলে কেন্দ্রকে নিশানা করল তৃণমূল।
তৃণমূলের ওয়েবিনারে ঘুরেফিরে এসেছে রাজ্যপালের নবতম ট্যুইটের প্রসঙ্গও। সুদীপ ব্যানার্জি বলেন, এখন করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সময়। যতদিন সেই লড়াই চলছে, ওঁর প্রশ্নের কোনও উত্তর আমরা দেব না। উনি থাকুন ওঁর মতো, দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে। ডেরেকের কটাক্ষ, উনি ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।
লকডাউন জারি করা নিয়েও কেন্দ্রকে বিঁধেছেন সুদীপ ব্যানার্জি। তাঁর মন্তব্য এক্ষেত্রে কেন্দ্রের দূরদর্শিতার অভাব ছিল। পরিযায়ী শ্রমিকদের কথা ৪ ঘণ্টার ঘোষণায় দেশ স্তব্ধ করে দেওয়ার আগেই ভাবতে হতো। পরিযায়ী শ্রমিকদের বাড়ি ফেরানো নিয়ে তৈরি হওয়া কেন্দ্র-রাজ্য রাজনৈতিক চাপানউতোরে সুর চড়িয়েছেন উত্তর কলকাতার সাংসদ। তিনি বলেন, ২৬ মার্চ মমতা ব্যানার্জি ১৮ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে রাজ্যে রাজ্যে বাঙালি শ্রমিকদের দেখভাল করার আবেদন রাখেন। কিন্তু তখনও টনক নড়েনি কেন্দ্রের। বারাসতের তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদারের মন্তব্য, খাওয়ার টাকা নেই, ওঁদের কাছে ট্রেনের টিকিট চাইছে কেন্দ্র!

এদিনই একটি কাগজ দেখিয়ে তৃণমূলের মুখপাত্র ডেরেক ওব্রায়েন দাবি করেন, পরিযায়ী শ্রমিকদের থেকে টিকিট বাবদ টাকা নেওয়া হয়েছে। ডেরেক বলেন, তার প্রমাণ এই টিকিট। যদিও কেন্দ্রের তরফে শ্রমিকদের থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ মানা হয়নি।

Comments are closed.